‘ডা. মুরাদকে সরাতে সময় লাগেনি, আমি কেন ঘুরব?’

‘বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী’ এই ক্যাটাগরিতে ২০১৩ সালে জয়িতা সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন ম'রিয়ম খাতুন। নাটোরের বড়ইগ্রাম উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তার স্বাক্ষর করা ওই সম্মাননাপত্রটি হাতে নিয়ে বলছিলেন, ‘মন্ত্রী মুরাদকে সরাতে তো কোনো রায় লাগেনি। জামালপুরের ডিসি’র বেলায়ও তো রায়ের প্রয়োজন হয়নি। তাহলে আমি কেন পথে পথে ঘুরব?’

সোমবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জে'লা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কথা হয় ম'রিয়ম খাতুনের সঙ্গে। কার্যালয়ের প্রধান ফট'কের সামনে ১০ বছর বয়সী শি'শুকন্যা মিথিলা খাতুনকে নিয়ে বসে ছিলেন তিনি। পেছনেই বিভিন্ন দাবির কথা উল্লেখ করে আম'রণ অনশনের ব্যানার টানানো।

সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কথা হলে ম'রিয়ম খাতুন জানান, বেলা ১১টা থেকে যেভাবে ছিলেন সেভাবেই তিনি সেখানে ব্যানার টানিয়ে বসে আছেন। সব দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত তিনি মে'য়েকে নিয়ে অনশন করে যাবেন।

ম'রিয়ম বলেন, ‘১১ বছর আগে স্বামী আমাকে ডিভোর্স দেয়। প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও আ'দালতে অসচ্ছলতার কাগজ দেখিয়ে মাসে মাত্র এক হাজার টাকা মে'য়েকে দিচ্ছে। এ টাকায় মে'য়ের পড়ালেখাসহ অন্য খরচ চালানো যাচ্ছে না। তার বাবা জাতীয় পরিচয়পত্র কাগজ না দেওয়ায় স্কুলেও ভর্তি করানো যাচ্ছে না মে'য়েকে।’

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘অন্যায় করার পর মন্ত্রী মুরাদকে পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। জামালপুরের ডিসির বি'রুদ্ধেও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি কেন এখানে-সেখানে ঘুরব? আমি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।’

নাটোর জে'লার বড়ইগ্রাম উপজে'লার কৃষ্ণপুর গ্রামের সিতাব আলী মণ্ডলের মে'য়ে ম'রিয়ম খাতুন। ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট পাবনার আটঘরিয়া গ্রামের রামেশ্বর গ্রামের সুরমান মিয়ার ছে'লে মো. শাহ আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শাহ আলম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজে'লায় কর্ম'রত।

বিয়ে প্রায় তিন বছর পর ২০১১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায় শাহ আলম ও ম'রিয়ম দম্পতির। ম'রিয়ম এর পর ব্র্যাকের প্রগ্রাম অর্গানাইজার হিসেবে চাকরি নেন। অ'নৈতিক আবদার মেটাতে না পারায় এক কর্মক'র্তার মিথ্যা অ'ভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর চাকরি চলে যায়। এর পর থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকেন তিনি।

ম'রিয়ম বেগম বলেন, ‘আ'দালতের রায় অনুযায়ী আমা'র কাবিননামা'র টাকা দিয়ে দেয় শাহ আলম। মে'য়ের জন্য মাসে এক হাজার টাকা করে দেয়। কিন্তু এ টাকার খরচ চালানো সম্ভব না। ব্যাংকে থাকার টাকার লাভ ও ওই এক হাজার টাকা দিয়ে আমা'র মাসহ তিনজনের সংসার চালানো খুবই ক'ষ্ট'কর।’

তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন মে'য়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানো নিয়ে। কেননা ভর্তির জন্য পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু মিথিলার বাবা সেটা দিচ্ছে না। অনেকে বলছে বাবাকে মৃ'ত দেখাতে। কিন্তু সেটাও আমি করতে চাই না। এ ছাড়া জীবিত মানুষের মৃ'তের সার্টিফিকেট কে দেবে?’

ম'রিয়ম অ'ভিযোগ করেন, এখনো তাঁকে নানাভাবে নি'র্যাতন করা হয়। শাশুড়ি স্বাভাবিক মৃ'ত্যুবরণ করলে তাঁর নামে হ'ত্যা মা'মলা দেওয়া হয়। পু'লিশের ত'দন্তে সেটি মিথ্যা মা'মলা হিসেবে প্রমাণিত হলে রক্ষা পান। ডিভোর্স দেওয়ার পর শাহ আলম আরেকটি বিয়ে করেছেন।

Back to top button

You cannot copy content of this page